দেশজুড়ে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ২৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য অঞ্চল এবং খুলনা বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।
দেশব্যাপী দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—
২৪ এপ্রিল (শুক্রবার): রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা । ২৫ এপ্রিল (শনিবার): রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিচ্ছিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি । ২৬ এপ্রিল (রোববার): দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে । ২৭ এপ্রিল (সোমবার): উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহ স্বল্পমেয়াদে অব্যাহত থাকলেও ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অতিরিক্ত গরমে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলের মানুষই ভোগান্তিতে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে, একই সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতিও কিছু এলাকায় বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া, বেশি করে পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার। সব মিলিয়ে, তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের বড় অংশ বিপর্যস্ত থাকলেও সামনে বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে। তবে সেই স্বস্তি পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।