ইউক্রেইন কি যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া পূরণ করতে পারবে?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেইনের সামরিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেইন কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করতে পারবে?
সৌদি আরবে অবস্থিত পিন্স সুলতান বিন বাসের এ সম্প্রতি ইউক্রেইনের তৈরি ‘স্কাই ম্যাপ’ নামের একটি উন্নত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। ইরানি ড্রোন হুমকি মোকাবেলায় এটি ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা জোরদারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, ইউক্রেইনের সামরিক কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ওই ঘাঁটিতে পৌঁছে মার্কিন সেনাদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনসহ বিভিন্ন ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করতে ‘স্কাই ম্যাপ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৬৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং চলমান উত্তেজনার শুরু থেকেই একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলায় সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন ইউক্রেইনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বীকৃতি, অন্যদিকে তা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনে দিয়েছে। হুসরোন ইনড্রাস্টির এর সিনিয়র ফেলো ট্রিমেটি বলেন, “বিশ্বজুড়ে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে, যা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগেও ট্রাম্প ইউক্রেইনের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ভলোডিমি এর দেওয়া সেই প্রস্তাবকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে বাস্তব পরিস্থিতির চাপে এখন প্রেন্টাগন ইউক্রেইনের তৈরি প্রযুক্তিই গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে।

‘স্কাই ম্যাপ’ মূলত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা রাডার ও সেন্সর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য ড্রোন হুমকি শনাক্ত করে। ২০২২ সালে ইউক্রেইনের প্রকৌশলীরা এটি তৈরি করেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটি ইতোমধ্যে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

এদিকে পেন্টাগন ড্রোন প্রতিরক্ষা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র আওতায় প্রায় ৩৫ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ড্রোন হুমকি পুরোপুরি প্রতিরোধ করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন থেকেই যায়—নিজ দেশের যুদ্ধ সামলে ইউক্রেইন কতটা সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করতে পারবে? বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD