গলে টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ইতিহাস গড়লেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে ১৬তম অধিনায়ক হিসেবে জায়গা করে নিলেন রেকর্ড বইয়ে। একইসঙ্গে, দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কাকে দিলেন ২৯৬ রানের লক্ষ্য।
শনিবার (২১ জুন) গল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংস ৬ উইকেটে ২৮৫ রানে ডিক্লেয়ার করেন অধিনায়ক নাজমুল। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০ রানের লিডের সঙ্গে যোগ হয়ে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়ায় ২৯৫ রান।
প্রথম ইনিংসে ২৭৯ বলে ১৪৮ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ফের দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন শান্ত। ৮৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে থারিন্দু রত্নায়েকের বিপক্ষে রিভার্স সুইপে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ১৯৯ বলে ১২৫ রানে।
এই ইনিংসের মাধ্যমে শান্ত হলেন টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ১৬তম অধিনায়ক, যিনি ম্যাচের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করলেন। বাংলাদেশি হিসেবে তিনি দ্বিতীয়—এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন মুমিনুল হক ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার কীর্তি মাত্র তিনজনের। প্রথম ছিলেন মুমিনুল হক, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার এই কীর্তি করেছেন শান্ত নিজেই। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও প্রথম ইনিংসে ১৭৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রান করেছিলেন তিনি।
তবে শান্তর এবারের কীর্তি আলাদা এক উচ্চতায়। কারণ, দেশের বাইরে—গলে—এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। মুমিনুল ও আগের শান্তর কীর্তি ছিল দেশের মাটিতে।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হলেন শান্ত। পেছনে ফেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। অধিনায়ক হিসেবে এটি তার তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি, যা এই ভূমিকায় মুশফিকুর রহিমের (৪টি) পরেই সর্বোচ্চ।
বিশ্ব টেস্ট ইতিহাসে এমন দ্বৈত সেঞ্চুরি দুইবার করার নজির রয়েছে মাত্র ১৫ জন ক্রিকেটারের, তাদের তালিকায় এবার যুক্ত হলেন শান্তও।
বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করেছে এমন সময়, যখন দিনের খেলা বাকি ছিল প্রায় ৩৭ ওভার। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার সামনে দুটি পথ—জয়ের জন্য ২৯৬ রান তাড়া করা অথবা উইকেট বাঁচিয়ে ম্যাচ ড্র করা।
শান্তর সঙ্গী ছিলেন নাঈম হাসান, যিনি অপরাজিত ছিলেন ২৩ বলে ৭ রানে। দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রানে ৩ উইকেট নেন লঙ্কান স্পিনার থারিন্দু রত্নায়েকে।