সংস্কার ইস্যুতে সরকার ‘প্রতারণা করছে’—এমন অভিযোগ তুলে নতুন সংবিধানের দাবিতে আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে দলের নেতারা এ অভিযোগ করেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। “যে আইনগুলো সরকারের ক্ষমতা বাড়ায়, সেগুলো পাস করা হচ্ছে; কিন্তু জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন প্রস্তাব বাতিল করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে সরকার বিরোধী মত দমনের সুযোগ তৈরি করেছে।
সরকারে যাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। “গুম কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে তারা অবস্থান বদলেছে। তাই আমরাও নতুন সংবিধানের দাবিতে ফিরব।”
অনুষ্ঠানে আলোচক দিলারা চৌধুরী বলেন, অতীতেও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। “বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামো সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হলে শাসনব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারে। “সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোটের ফল মানতেই হবে, না হলে তারা আগের পথেই ফিরে যাবে।”
আরেক আলোচক মির্জা হাসান ‘জুলাই সনদ’-কে রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ—বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। বক্তারা বলেন, সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে।