মৌলভীবাজারে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওর এবং মনু প্রকল্পের কাউয়াদিঘি হাওরের ২,১৬০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকাল পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
এ ছাড়া সদর উপজেলার কাঞ্জার হাওরসহ ছোট ছোট হাওরগুলোতে ছয় দিন ধরে বোরো ধান পানির নিচে রয়েছে। এতে ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক ধান কেটে স্তূপ করে রাখলেও রোদ না থাকায় সেগুলোতে অঙ্কুর বের হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, হাওর এলাকায় শ্রমিক সংকট রয়েছে। জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত পানির কারণে তারা ধান কাটতে আগ্রহী নন। মনু প্রকল্পের পাম্প পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষক খসরু মিয়া, আমজাদ হোসেন ও আলী হোসেন বলেন, সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ ও ধারদেনা করে তারা বোরো ধান চাষ করেছিলেন, কিন্তু অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ ফসলই নষ্ট হয়েছে।
খসরু মিয়া বলেন, “বেশিরভাগ ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। যেগুলো তুলেছি, সেগুলো রোদে শুকাতে না পারায় অঙ্কুর বের হয়েছে। এখন পরিবারের খাবার জোগাবো কীভাবে, ঋণ শোধ করবো কীভাবে—এই দুশ্চিন্তায় ঘুম আসে না।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, বৃষ্টির কারণে কাউয়াদিঘি হাওরের পানি এখনও বাড়ছে। বৃষ্টি কমলে ৫-৬ দিনের মধ্যে পানি নামতে পারে। তবে বর্তমানে যত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি পানি বৃষ্টির মাধ্যমে যোগ হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো ব্যাহত হয়েছে। আটটি পাম্প চালাতে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে প্রায় আড়াই মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আটটির মধ্যে ছয়টি পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলার সাতটি উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এ পর্যন্ত ২,১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি না কমলে ক্ষতি আরও বাড়বে। এ বছর জেলায় ৬২,৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছিল, যার অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, আর বাকিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৮৩ মিলিমিটার, যার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্তই ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।