কলম্বো টেস্টে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে হতাশ করল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিন সকালে ২৪৭ রানে অলআউট হয়ে গেছে সফরকারীরা। ইনিংসে একটিও ফিফটি নেই, নেই বড় কোনো পার্টনারশিপও। সর্বোচ্চ ৪৬ রান এসেছে ওপেনার সাদমান ইসলামের ব্যাট থেকে। অভিষিক্ত শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি স্পিনার সোনাল দিনুশা এবং পেসার আসিতা ফার্নান্ডো—দুজনেরই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পঞ্চাশের আগেই থেমে গেছে বাংলাদেশের পাঁচটি সম্ভাবনাময় ইনিংস।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশ ছিল ৮ উইকেটে ২২০ রানে। হাতে থাকা দুই টেলএন্ডার—তাইজুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেনের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল কয়েকটা বাড়তি রানের। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ইবাদত এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন ৮ রানে। এরপর তাইজুল কিছুটা লড়াই করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মিডউইকেটে দিনেশ চান্ডিমালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৩৩ রান করে। এটাই ছিল ইনিংসের শেষ উইকেট।
ব্যাটিং ব্যর্থতার শুরু হয়েছিল ওপেনার এনামুল হকের শূন্য রানে ফেরার মধ্য দিয়ে। এরপর মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত—দুজনই সেট হওয়ার পর বাজে শটে ফিরে গেছেন। মুশফিক ও লিটন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাঁদের বিদায়ের পর দ্রুত উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজ (৩১) ও নাঈম হাসান (২৫)–দুজনেই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিষিক্ত স্পিনার দিনুশা। মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৩টি উইকেট। আসিতা ফার্নান্ডোও নিয়েছেন ৩টি উইকেট ৫১ রানে। তাঁদের সহায়তা করেছেন বিশ্ব ফার্নান্ডো, পেয়েছেন ২টি উইকেট।
সাধারণ ব্যাটিং উইকেটে এভাবে ২৪৭ রানে অলআউট হওয়া স্বভাবতই হতাশাজনক। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ইনিংস বড় করার সামর্থ্য থাকলেও আত্মবিশ্বাস ও একাগ্রতার অভাব বারবার ব্যর্থতায় রূপ নিচ্ছে। পাঁচ ব্যাটার ৩০ পেরোলেও কেউই ফিফটি করতে পারেননি। উইকেটগুলোও বেশিরভাগই ছিল অপ্রয়োজনীয় শট খেলে হারানো।
এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফিরে আসার একমাত্র পথ এখন বোলারদের কাঁধে। ব্যাট হাতে যা হারিয়েছে, তা বল হাতে পুষিয়ে দিতে হবে। তবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী—তাদের থামাতে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে নিখুঁত বোলিং ও ফিল্ডিং। না হলে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা বাড়বে বই কমবে না।