বাংলাদেশের আরচারি ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন আবদুর রহমান আলিফ। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ আরচারি (স্টেজ ২)-এর রিকার্ভ পুরুষ এককের ফাইনালে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে জাপানের প্রতিযোগী মিয়াতা গাকুতোকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। এই জয়ের ফলে ৬ বছর পর এশিয়ান আরচারিতে স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ।
ফাইনালে আবদুর রহমান আলিফ জাপানের মিয়াতা গাকুতোর মুখোমুখি হন। শুরুটা দারুণ করেছিলেন আলিফ। প্রথম দুই সেটে তিনি এগিয়ে যান এবং নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে জাপানের গাকুতোও সহজে হাল ছাড়েননি। অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি পরের দুটি সেট জিতে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। এমনকি চতুর্থ সেটেও গাকুতো এগিয়ে ছিলেন।
ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পঞ্চম ও শেষ সেটে, যেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। দুই আরচারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। শেষ শটে আলিফ তার অসাধারণ দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। স্নায়ুচাপের এই মুহূর্তে তিনি ২৯-২৬ ব্যবধানে গাকুতোকে পেছনে ফেলে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আলিফ শুধু নিজের সেরা পারফরম্যান্সই দেখাননি, বরং দেশের জন্য বয়ে এনেছেন এক বিরল সম্মান।
আলিফের এই স্বর্ণপদক জয় বাংলাদেশের আরচারির জন্য এক বিশাল অর্জন। এর আগে বিশ্বকাপ, এশিয়ান আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান আরচারি গ্রাঁ প্রিঁ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নিলেও কোনো পদক জিততে পারেননি এই তরুণ আরচার। তবে এবারের এশিয়ান কাপে তিনি শুধু অংশই নেননি, বরং সরাসরি স্বর্ণপদক জয় করে তার দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন।
স্বর্ণ জেতার পর সিঙ্গাপুরের আরচারি মাঠে আলিফের উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা। তিনি তার জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখকে জড়িয়ে ধরে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করেন। এসময় কোচ ও খেলোয়াড় উভয়ের চোখে-মুখে ছিল বিজয়ের আনন্দ ও গর্বের ছাপ।
বাংলাদেশের আরচারির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক, যা আগামী দিনে আরও অনেক তরুণ আরচারকে অনুপ্রাণিত করবে। এই বিজয় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।