হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পৌষের কনকনে ঠান্ডা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত সারা দেশ। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি, কোথাও মেলেনি সূর্যের দেখা। গত তিন দিন ধরে চলা এই শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর দিচ্ছে নতুন উদ্বেগের খবর। আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) থেকে দেশের কোথাও কোথাও হানা দিতে পারে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ; পারদ নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে শীতের দাপট ফের বাড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে। জানুয়ারির এই দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত দুটি হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
এদিকে টানা কয়েক দিনের শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ, সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। গতকাল সকালেই দৃষ্টিসীমা কমে আসায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী ৯টি ফ্লাইট কলকাতা, ব্যাংকক ও চট্টগ্রামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (ডাইভার্ট)। কুয়াশচ্ছন্ন সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে কয়েক গুণ।
অন্যদিকে, যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলাটিতে চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত মোট চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনুভূত হলো। এদিকে আজ ভোলা, বরিশাল, খুলনা, যশোর, দিনাজপুর ও মৌলভীবাজারসহ ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ কিছুটা বেশি। আজ শনিবারও দুপুর পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় ঘন কুয়াশা স্থায়ী হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যার ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং ৫ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে তাপমাত্রা আরও হ্রাসের ইঙ্গিত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সড়কে চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী এক সপ্তাহ কনকনে শীতের এই আমেজ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।