শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: মাহদী আমিন ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে গুলি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে খাদ্যবাজার আগামীকাল থেকে ভারি বৃষ্টির আভাস, বন্যার শঙ্কা সাংবাদিকদের নৈশভোজে গুলির ঘটনা, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে ছাত্রদল ছাত্র শিবির সংঘর্ষের নেপথ্যে স্থানীয় সরকার ইলেকশন ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে সরকার সংবাদটি সঠিক নয়: গভর্নর গর্তে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে লড়ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী জঙ্গি হামলার আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে সিটিটিসি জামায়াত আমির কখনও সুস্থ চিন্তা করতে পারেন না: মির্জা ফখরুল

ছাত্রদল ছাত্র শিবির সংঘর্ষের নেপথ্যে স্থানীয় সরকার ইলেকশন

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সঙ্গে মূলত শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় মামলাও হয়েছে। ভবিষ্যতে সংঘর্ষের মাত্রা, ব্যাপকতা এবং পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে পারে। ছাত্রদল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ছাত্র শিবিরকে ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে বলে এলেও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনা সংঘর্ষ অত্যন্ত পরিকল্পিত। আসন্ন স্থানীয় সরকার ইলেকশনের আগে মাঠ পর্যায়ে জামায়াত-শিবির প্রভাব বিস্তার করতেই এসব ঘটনা ঘটছে। দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি চেষ্টা চলছে। যাতে করে বিএনপিকে অকার্যকর সরকার হিসেবে দেশ-বিদেশে প্রমাণ করা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ছাত্র শিবির জয়লাভ করে। যারা নির্বাচিত হন, তাদের অনেকেই এক সময় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমন ঘটনার পর ছাত্রদলের তরফ থেকে ছাত্র শিবির ‘গুপ্ত’ সংগঠন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়।

এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র শিবির জয় পায়। তাদের অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল বলে পর ছাত্র শিবিরের অনেকেই দাবি করেছেন। কিন্তু তখন কোনো সংঘর্ষ বা শব্দ হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি ক্ষমতা লাভ করে। পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হয় জামায়াতে ইসলামী। ছাত্র শিবিরের গুড রাজনীতি ও ‘গুপ্ত’ সংগঠন হওয়ার বিষয়টি পার্লামেন্টে আলোচিত হয়। এমন ঘটনার পর সম্প্রতি ঢাকা সিটি কলেজ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতিতে ছাত্র শিবিরকে ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আর এতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয় চরম অস্থিরতা। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে এরই মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

বোমা হামলা, পায়ের গোড়ালি কেটে দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে হামলায় উভয় দলের ছাত্রদের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতেও মারামারি হয়েছে ছাত্র সংগঠন দুটির মধ্যে। এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দুই পক্ষ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির জানান, ‘শিবির সব সময় ‘গুপ্ত’ রাজনীতি করে আসছে। এর মাধ্যমে তারা অন্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিশে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করে। বিগত দিনেও তারা এমনভাবে বহু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা মনে করি, এটি রাজনীতির জন্য কলঙ্ক। তাই বিভিন্ন স্থানে তাদের ‘গুপ্ত’ রাজনীতির বিপক্ষে মাঠে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।’ যদিও বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ছাত্র শিবিরের নেতারা।

জানা গেছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার ইলেকশনকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরেই শিবিরকে ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও কোনো অস্থিতিশীল ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু স্থানীয় সরকার ইলেকশন যত এগিয়ে আসছে, পার্লামেন্টের বিরোধী দল তত সক্রিয় হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার সুযোগটিকে পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে বিরোধী দল। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনেক সংঘর্ষের সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর জড়িত থাকার বিষয়েও আভাস মিলেছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো রাজনীতির মাঠে থাকা অনেক বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে গেছে। তারা এক সময় বিতর্কিত ওইসব রাজনৈতিক দলের আদর্শে বিশ্বাসী ছিল। যে কারণে সামনের দিনগুলোতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

এমনকি বেড়ে যেতে পারে খুন-গুমের মতো অপরাধ। কারণ, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো দেশে নাশকতার পাশাপাশি খুন-গুমে অত্যন্ত পারদর্শী। তারা অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরি করতে সক্ষম। দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হতে পারে। যাতে করে বিএনপিকে ব্যর্থ সরকার হিসেবে দেশ-বিদেশে প্রমাণ করা যায়। আর এমন সুযোগে স্থানীয় সরকার ইলেকশনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল। বিএনপি ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিটি রয়েছে। কমিটি থাকার কারণে তাদের শক্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে।
পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর থেকেই কোনো কোনো রাজনৈতিক দল তাদের নেটওয়ার্ক বা কমিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি ইসলামী দলের এক সময় উপজেলা বা থানা পর্যায়ে কমিটি ছিল। বর্তমানে সেই কমিটি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত গঠিত হওয়ার কাজ প্রায় শেষ দিকে। তারা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফরিদ বলেন, দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। যারা চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সে ক্ষেত্রে কে কোন দলের, সেটা দেখা হবে না। আইন সবার জন্য সমান। সারা দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের বিষয়গুলো গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এসব সংঘর্ষে জড়িতদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও পুলিশের লুট হওয়া এক হাজার তিন শতাধিক অস্ত্র ও প্রায় আড়াই লাখ গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD