মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী খাদ্যবাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্বজুড়ে ভোক্তাপণ্য, ভ্রমণ ও খনি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো বলছে, যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্যশৃঙ্খলে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
এফএওর মাসিক ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মার্চে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১২৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শস্য, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ প্রায় সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা সয়াবিন তেলকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এফএও জানায়, মার্চে মাংসের মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৭ দশমিক ৭ পয়েন্টে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১২০ দশমিক ৯ পয়েন্টে উঠেছে, যদিও তা ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় কম।
চিনির দাম বৃদ্ধির পেছনেও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিল আখ থেকে চিনি উৎপাদনের বদলে ইথানল উৎপাদনে বেশি ঝুঁকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ফরাসি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্যানোন জানিয়েছে, ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শিশু খাদ্যের সরবরাহ যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে তাদের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় কমে গেছে।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, সংঘাত শুরুর পর খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি শুরুতে সীমিত ছিল। তবে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে এখন খাদ্যমূল্য দ্রুত বাড়ছে। যদিও বৈশ্বিকভাবে শস্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দেখা দিলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। এতে কৃষকরা বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারেন, চাষের পরিমাণ হ্রাস করতে পারেন কিংবা ফসল পরিবর্তনের দিকে যেতে পারেন।