গ্যাস সংকটের কারণেই দেশে লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো অনেকাংশে গ্যাসনির্ভর, আর গ্যাসের একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়।
মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়, আর প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। তবে অর্থের সংস্থান থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে লোডশেডিং বেড়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “লোডশেডিংসহ নানা অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস হলেও এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।” তিনি জানান, সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় কম।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে, তাহলে প্রতি কেজি পণ্যের দাম প্রায় ৩০ পয়সা বাড়তে পারে—যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তাই এ খাতে নির্ভরতা কমাতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সংরক্ষণাগার (স্টোরেজ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খালটি পরিদর্শনে যান বাণিজ্যমন্ত্রী। তার সঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাসিয়া খাল খনন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালের ২৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। সিলেট সদরের মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে অন্তত ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।