আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী এসব সংশোধন করে বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ গভীর অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি যদি আবার ফিরে আসে এবং আমরা লক্ষ্যচ্যুত হই, তাহলে আগামী প্রজন্মের সামনে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরি হবে—যা আমরা কোনোভাবেই চাই না।”
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভা শুরুর আগে মন্ত্রী আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের নামফলক উন্মোচন করেন। পাশাপাশি বারের ভবন ও লাইব্রেরির উন্নয়নের জন্য ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রী আরও বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলার আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, “হাতের কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের একটি বড় দৃষ্টান্ত।”
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনায় একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হবে।”
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।