ঢাকার কর অঞ্চল-৫–এর সার্কেল-৯০ (কোম্পানি) অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফাঁস হয়েছে, বিপুল অঙ্কের এই কর ফাঁকির সঙ্গে জড়িত নথিপত্র ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে গায়েব’ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট কর অফিসে অভিযান চালিয়ে মূল ফাইল ও আয়কর নির্ধারণ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে না পাওয়ায় ঘুষ ও দুর্নীতির একটি গভীর চক্রের সন্দেহ জোরালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ করবর্ষের মাসিক কর নির্ধারণ রেজিস্ট্রার-৪–এর নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় একটি করদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে “কর মওকুফ সুবিধা” প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষে যথাক্রমে ৭২ কোটি ৯৬ লাখ ও ৭৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা কর দাবির পরিবর্তে তা শূন্য এবং মাত্র ১ হাজার ২৯৯ টাকায় রূপান্তর করা হয়েছে, যা “অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ঘুষের বিনিময়ে করদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর মওকুফ করে সরকারের রাজস্বে বিপুল ক্ষতি করেছেন এবং নিজেদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে দুদক মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল যাচাইয়ের জন্য অভিযান চালায় এবং ভূমি অফিস থেকেও রেকর্ড সংগ্রহ করে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শনও করা হয়।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দেবে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অনুসন্ধান ভবিষ্যতে কর ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত একটি বড় দুর্নীতি চক্রের সন্ধান দিতে পারে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, “এই অভিযান দেশের রাজস্ব সুরক্ষায় কমিশনের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির গভীরতা ও স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট করে। ১৪৬ কোটি টাকার মতো একটি বড় অঙ্কের ফাঁকির ঘটনা জবাবদিহিতার অভাব এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তারা বলছেন, সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা, কর ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং উন্নয়ন প্রকল্পে সঠিক বরাদ্দ নিশ্চিতে অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই ঘটনা দেশের কর প্রশাসনের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে রইল।
সূত্র: সমকাল