প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টিতে ফের দেখা দিয়েছে গভীর রাজনৈতিক সংকট। নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ ও দ্বন্দ্বে দলটির ভেতর উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
গতকাল পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের একক সিদ্ধান্তে মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে বাদ দিয়ে নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা সিদ্ধান্তটিকে ‘অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, পার্টির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং নেতৃত্বে একনায়কতান্ত্রিক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁরা পার্টির ত্যাগী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবে জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার ও চুন্নুকে সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ২৮ জুনের প্রেসিডিয়াম সভায়।
দলের অভ্যন্তরীণ এই বিবাদ ২৮ জুনের ঘোষিত জাতীয় কাউন্সিল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দলীয় সূত্র বলছে, আনিসুল ও হাওলাদার বলয় এখনও কাউন্সিল দাবি করছে এবং দ্রুত তা না হলে পাল্টা কাউন্সিলের হুমকিও দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব সংকট ও ভাঙনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এখনই ঐক্যের পথে না ফিরলে দলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পতনের মুখে পড়তে পারে।