স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকেই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল এবং সেটিই বাস্তবতা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে দলের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল, তা নিয়ে বিদ্রুপ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। তার দাবি, ওই বৈঠকেই দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দলটির অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন বক্তব্য গণতন্ত্রকে সহায়তা করেনি। নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলা হলেও তা দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আহ্বানে অনেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং সেই সংগ্রামের চেতনা এখনো প্রাসঙ্গিক।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দেশের অস্তিত্ব ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। যদিও বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের অনেক ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে, তবুও এটি স্বাধীন বাংলাদেশের মূল ভিত্তি।
রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতির অবস্থান না থাকলে দেশে অরাজকতা তৈরি হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনের ইতিহাস দেশের মানুষ হৃদয়ে ধারণ করে। এ নিয়ে কটাক্ষ করা হলে তা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হানে।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়। তার দাবি, সংস্কারের সূচনা বিএনপিই করেছে।