জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের টালবাহানা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের অভিনব আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।”
আজ বুধবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশ’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে তারেক রহমান প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ধরনের পরিবেশ দরকার, তা বর্তমানে বাংলাদেশে দৃশ্যমান। সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এক প্রকার প্রহসনে পরিণত হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে বাধা প্রদান, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং মামলা দায়েরের মাধ্যমে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার একটি অপচেষ্টা।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন কোনো নির্বাচন তারা মেনে নেবেন না। একটি অর্থবহ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সকল দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি এই টালবাহানা চলতে থাকে, তাহলে দেশের গণতন্ত্র আরও সংকটের মুখে পড়বে।
এসময় রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ না বানাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না।”
তিনি সরাসরি আহ্বান জানান, যদি অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চান, তবে তাদের পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট পেলে তবেই তারা পুনরায় সরকারে ফিরতে পারবেন।
তারেক রহমান আরও জানান, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপির সুনির্দিষ্ট ও একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, যেকোনো দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্বাচিত সরকার থাকা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্টানে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।