দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি প্রয়োজনে আবারও রাজপথে জোরালো আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাহিদ এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। নাহিদ বলেন, প্রয়োজনে তিনি আবারও “বুলেটের সামনে” দাঁড়াতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সেনাবাহিনী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি ‘অঘোষিত চুক্তি’ হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি এখন মানা হচ্ছে না। নাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই চুক্তি মানা না হয়, তবে আমাদের আবারও রাজপথে নামতে হবে, এমনকি বুলেটের সামনে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতির জন্যও আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন অনেকটাই একা হয়ে পড়েছেন। এসময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের দরবার হলে দেওয়া বক্তব্য, গুমের ঘটনা এবং রাজনীতিতে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) এর কথিত ভূমিকার বিষয়েও তার স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন নাহিদ। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূসের ওপর ‘বিএনপির প্রভাব’ নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তিনি এসব বিষয়কে দায়ী করেন।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও নাহিদ ইসলাম উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যমগুলো সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না অথবা কোনো নির্দিষ্ট প্রভাবের অধীনে কাজ করছে।
গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) এনসিপি’র কার্যালয়ে দেশের সনামধন্য একটি প্রত্রিকায় এই সাক্ষাৎকার দেন নাহিদ ইসলাম। সাক্ষাৎকারে তিনি র্যাবসহ সরকারে থাকাকালে তার অনেক অভিজ্ঞতার বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সেই পথে এগোয়নি। কেন তারা সেই পথে আগাননি, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশের মাত্র তিন দিন আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার এই পদত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এবার তার এই বিস্ফোরক মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।