শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য রিটার্ন নিয়ে কঠোর নজরদারিতে এনবিআর ‘বাজেটে সিগারেটের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই’ নিউমার্কেট এলাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১ মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইডকে কার্যকর হতে হবে: আইনমন্ত্রী মৌলভীবাজারের হাওরে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হামের জীবাণু ফ্লোরে থাকে ৩ দিন, ঢামেকে এক মাসে ৩ শিশুর মৃত্যু যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন প্রেমিকা আপনাকে সত্যিই ভালোবাসে ১৮২ রান টপকে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের, সিরিজে এগিয়ে টাইগাররা ‘গণভোট ও জুলাই সনদ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’ : প্রধানমন্ত্রীর

মৌলভীবাজারের হাওরে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, টানা বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে হাওরের পাশাপাশি জেলার বাইরের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক কৃষক চরম হতাশায় পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। হাওরের প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, বাকিটা হাওর এলাকার বাইরে রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, গত দুই দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত পানি বেড়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার হাওর ও নিম্নাঞ্চলের ধানখেতও প্লাবিত হয়েছে। কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, “ধান কাটার সময়ই হাওরের সব ধান ডুবে গেছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছি। এখন সেই ঋণ কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না। এমন ক্ষতি হবে ভাবিনি।”

কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে ধান চাষ করেছিলাম। প্রতি একরে প্রায় ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কাটার সময়ই ধান ডুবে গেল।” শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আবহাওয়া সহকারী আনিসুর রহমান জানান, ২৭ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওরের ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধান ডুবে গেছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD