শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য রিটার্ন নিয়ে কঠোর নজরদারিতে এনবিআর ‘বাজেটে সিগারেটের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই’ নিউমার্কেট এলাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১ মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইডকে কার্যকর হতে হবে: আইনমন্ত্রী মৌলভীবাজারের হাওরে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হামের জীবাণু ফ্লোরে থাকে ৩ দিন, ঢামেকে এক মাসে ৩ শিশুর মৃত্যু যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন প্রেমিকা আপনাকে সত্যিই ভালোবাসে ১৮২ রান টপকে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের, সিরিজে এগিয়ে টাইগাররা ‘গণভোট ও জুলাই সনদ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’ : প্রধানমন্ত্রীর

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রতীক

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের একটি প্রতীক এবং এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে যাওয়ার শেষ ধাপ; এর মধ্য দিয়েই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সূচনা হলো।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রসরমান দেশ। শিল্পায়ন ও আধুনিক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক শক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৬৮ সালে, তবে তখন তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে একাধিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়, যেখানে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। ১৯৭৮ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করে। পরবর্তীতে ৭ মে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা কর্মসূচিতে নতুন গতি আনে।

মন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে পারমাণবিক গবেষণার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। গবেষণা রিয়্যাক্টর স্থাপনের মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক যাত্রার সূচনা হয়। আজ রূপপুর প্রকল্প সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

তিনি জানান, এই প্রকল্পে ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। এটি অত্যাধুনিক জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়ার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ প্রকল্পটিকে আরও নিরাপদ করেছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশি-বিদেশি অংশীদারদের অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ সংযোজনের মাধ্যমে শিল্প, অর্থনীতি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD