ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গত এক মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের নির্দিষ্ট ইউনিটে আরও ১৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের এখানে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হামের ভাইরাস করোনার মতোই বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ঘরের মেঝে ও আসবাবপত্রে এই ভাইরাস প্রায় তিন দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুকে নির্দিষ্ট স্থানে আলাদা রাখা এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নর্থ কেবিনে শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সব ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে অল্পবয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি। সাধারণত হামের রোগীদের আইসিইউর প্রয়োজন কম পড়লেও জটিলতা বাড়লে নবজাতকদের জন্য এনআইসিইউ এবং বড় শিশুদের জন্য পিআইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ঢামেকের পিআইসিইউতে ১৩টি আসন চালু আছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হামের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর ও কাশি থাকলেও সঠিক পরিচর্যায় ঘরে বসেই সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে শিশু যদি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো সমস্যায় ভোগে, তবে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে ২৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছে ৫ জন। গত এক দিনে সারাদেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৫৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।