জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আইনি স্বীকৃতি আদায়সহ চার দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি দিচ্ছে ধর্মভিত্তিক ও ডানপন্থী আটটি রাজনৈতিক দল। এসব দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি (একাংশ)।
দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই সনদের স্বীকৃতি আদায়ে মূলত বিএনপি ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, মহান মুক্তিযুদ্ধকে ২৪ অভ্যুত্থানের সমান্তরাল করার কোনও প্রচেষ্টাকে তারা সমর্থন করে না। সংবিধানে সংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত করার ক্ষেত্রে নির্বাচিত সংসদেই সবকিছু নির্ভর করছে, অন্য কোনও বিকল্পে তারা সম্মত নয়।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে বিএনপির সংস্কার দলের প্রধান সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সাধারণভাবে সেগুলো অগ্রহণযোগ্য এবং যৌক্তিক নয়। আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে যেতে পারলে বিএনপি সবচেয়ে খুশি হবে। কারণ, এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “নামে মাত্র একটি সংস্কার হলে হবে না। সংস্কারের আইনি ভিত্তি তৈরি অপরিহার্য। যার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, সেটি নিশ্চিত করতে আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমমনা এই ৮ দল পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (রবিবার) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
উল্লেখযোগ্য চারটি দাবি হলো—জুলাই সনদের অবিলম্বে বাস্তবায়ন; আওয়ামী লীগের দোসর ও আধিপত্যবাদী ভারতের এ দেশীয় এজেন্ট জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ; আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন; এবং আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি।
একইভাবে বাকি দলগুলোও তাদের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করবে।