জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট শাসনের গৌরব করার কিছু নেই। গণতন্ত্রকামীদের উচিত ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখা।”
তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই দিনে—৫ আগস্ট ২০২৪—বাংলাদেশের ইতিহাসের ঘৃণিত এক ফ্যাসিস্টের পতন ঘটেছে। বিজয়ের আনন্দ পূর্ণতা পায় তখনই, যখন পরাজিতরাও নিরাপদ থাকে। তাই আমি আবারও অনুরোধ জানাই—কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, মব ভায়োলেন্স না করে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে বিরত থাকে।”
তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব ধর্ম, মত ও বিশ্বাসের মানুষ নিরাপদে থাকবে। আজকের দিনটি হোক গণতন্ত্র ও মানবিকতার অঙ্গীকারের প্রতীক।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম, খুন, নির্যাতন, অর্থ পাচার এবং ব্যক্তিতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তারেক বলেন, “গণতন্ত্রকামীদের কণ্ঠ রোধ করতে ‘আয়নাঘর’-এ মানুষকে আটকে রাখা হতো। অনেকে আজও নিখোঁজ।”
তিনি দাবি করেন, “পূর্ববর্তী সরকার দেশের ব্যাংক দেউলিয়া করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করে দেশে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “যেমন কেউ হিটলারের নাৎসিবাদের গৌরব করে না, তেমনই ফ্যাসিস্ট শাসনকাল নিয়েও গর্ব করার কিছু নেই। ফ্যাসিস্ট চক্র এখনও অনুতপ্ত নয়।”
তারেক রহমান এও বলেন, “৫ আগস্ট ফাঁকা গণভবন, ফাঁকা সংসদ, ফাঁকা আদালত আমাদের দেখিয়েছে, ফ্যাসিস্টরা পালিয়েছে। মন্ত্রীরা, প্রধান বিচারপতি, খতিব সবাই পালিয়েছেন। কিন্তু জনগণ রয়ে গেছে এবং তারাই শক্তি।”
তারেক রহমান বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হলো জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে। আর রাজনৈতিক দলগুলোকে উচিত হবে জনগণের আদালতে নিজ নিজ এজেন্ডা পেশ করা—যেটি গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, সেটি নির্ধারণ করবে জনগণই।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধ থাকবে, এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে তা যেন চরমপন্থা বা উগ্রবাদের পথে না যায়। বাংলাদেশে আর কখনও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না—এটাই জনগণের অঙ্গীকার।”