ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ‘গোলামির শৃঙ্খল ছিন্ন’ করার অঙ্গীকারে কুষ্টিয়ায় পদযাত্রা ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, গোলামি নয়, আজাদি চাই আমরা। ভারতের গোলামি থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি—এখন আমাদের লড়াই মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার।”
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে পাঁচ রাস্তার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা আমাদের রাজনীতি, রাষ্ট্র বিনির্মাণ করবো স্বাধীনভাবে। কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ, শহীদ ইয়ামিন আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছেন। শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা তাদের উত্তরসূরি হিসেবে অধিকার ও মর্যাদার লড়াই চালিয়ে যাবো।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের পক্ষে কথা বলার অপরাধে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যেভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ হত্যা করেছিল, তা আধিপত্যবাদের নির্মম দৃষ্টান্ত। আমরা শহীদ আবরারের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। আধিপত্যবাদবিরোধী জন-আকাঙ্ক্ষার রাজনীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।
এর আগে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতারা। আবরারের মা-বাবাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।
জিয়ারতের সময় শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তারা বলেন, “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আবরার ফাহাদের বলিদান আমাদের পথ দেখায়।”
সমাবেশ শেষে জুলাই পদযাত্রাটি মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। এনসিপি জানায়, এটি তাদের দেশব্যাপী আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক অভিযানের অংশ, যা তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিনিধিত্ব করে।