নীলা ইস্রাফিল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও অভিনেত্রী, সম্প্রতি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চলমান মব ট্রায়ালের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘বিচার নয়, অপমান-এনসিপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চলছে মব ট্রায়াল!’ শিরোনামের স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রাজনীতিতে একজন নারী হিসেবে পথ চলাটা সহজ নয়, কিন্তু দলের ভেতরে এমন মানসিক নিপীড়নের মুখোমুখি হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি।
নীলা জানালেন, তিনি নিজে থেকে কিছু চায়নি, কেবল একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ চেয়েছিলেন যেখানে নীতির পক্ষে কথা বলতে পারবেন। কিন্তু দলের ভেতরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে দলবদ্ধভাবে অপপ্রচার, নিন্দা ও চরিত্রহানির প্রচেষ্টা। তিনি এটিকে ‘ডিজিটাল লিঞ্চিং’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটাই কি দলের নৈতিকতা এবং চেতনা, যেখানে নারী সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হলেও দলের কেউ সুরক্ষা দেয় না, বরং প্রতিবাদ করলে তাকে মব-সদৃশ ভাবে হেনস্তা করা হয়। নীলা এটিকে ‘ভয়ঙ্কর মব-সংস্কৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন, যা সত্যকে চাপা দিতে চায় এবং ভুক্তভোগীকে দোষী বানাতে চেষ্টা করে।
নীলা স্পষ্ট করেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি, কেবল সাহস দেখিয়ে বলেছে ‘না, আমি তা মেনে নেবো না।’ তিনি দলের স্বচ্ছ তদন্ত, সম্মানজনক বিচার ও স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছেন। মব-গ্রুপে নয়, প্রকৃত ন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, তার লেখা এবং তুষারের সাথে রেকর্ডিং মিথ্যাচারের প্রমাণ নয়, বরং তুষারের অপরাধের প্রমাণ। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার ফোন যেকোনো সময় জব্দ করা হতে পারে বা নিজেও হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারেন, তাই বিষয়গুলো সামনে আনতে বাধ্য হয়েছেন।
নীলা ইস্রাফিলের এই স্ট্যাটাস রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় ভেতরের সংকট ও নারীদের ওপর মানসিক নির্যাতনের একটি ছবি তুলে ধরেছে, যা এনসিপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব ও কট্টরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।