শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলে শক্ত বার্তা চীনের কবির আহমেদ ভূইয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও এতিমখানায় খাবার বিতরণ সরকার জনগণের সঙ্গে ‘মিথ্যাচার’ করছে: রুমিন ফারহানা ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগে আবারও বন্ধ হরমুজ প্রণালী একটি সমাধি ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাসের গল্প সু চির সাজা কমালেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং হরমুজ প্রণালি সচল করতে প্যারিসে বিশ্ব সম্মেলন: ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প: রাতে উড়ছে প্রথম ফ্লাইট সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ট্রাম্প

সিরাজগঞ্জে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫

সিরাজগঞ্জ জেলায় টানা কয়েকদিন ধরে চলা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা। শহর ও আশপাশের নিচু এলাকায় জমে থাকা পানিতে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, তাঁত শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া হাজারো মানুষ।

নদীবেষ্টিত শহর সিরাজগঞ্জের চৌরাস্তা, বড়বাজার, নতুন ভাঙাবাড়ি, একডালা, হাটিকুমরুল ও কামারখন্দ উপজেলার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—রাস্তাঘাট কাদাময় হয়ে উঠেছে, কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোয় নেই বেচাকেনা; অনেক দোকানদার দিনের পর দিন দোকান বন্ধ রেখেই বসে আছেন।

বেলকুচি ও শাহজাদপুরের তাঁত শিল্প-নির্ভর এলাকাগুলোতেও পড়েছে এর ব্যাপক প্রভাব। স্থানীয় তাঁত শ্রমিক মোছা. পারভীন বেগম বলেন, “গত তিন দিন ধইরা কারখানায় কাম নাই। রাস্তাঘাট কাদা, তাঁতঘরের ভিতর পানি ঢুইছে। কাম করতে পারতাছি না, আয় বন্ধ, খাইতে কষ্ট হইতাছে।” তার স্বামীও একজন তাঁত শ্রমিক, দুই সন্তানসহ মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।

শহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম জানান, “এই রকম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সবসময় খারাপ। মানুষ বাইরে বের হয় না, রিকশায় ওঠে না। বড় বৃষ্টিতে লোক থাকে, এই বৃষ্টিতে কাম কম।”

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ার হোসেন বলেন, “বৃষ্টিজনিত দুর্ভোগ নিরসনে আমরা প্রস্তুত আছি। নিচু এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে শুকনো খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে এখনো প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। বরং সহায়তার আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থেকেছে প্রশাসনিক উদ্যোগ।

স্থানীয় উন্নয়ন গবেষক অধ্যাপক আজিজুর রহমান বলেন, “সিরাজগঞ্জের মতো নদীবেষ্টিত জেলায় এখনো সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শহর ও গ্রামীণ এলাকার সড়কগুলো বছরের পর বছর সংস্কারের অপেক্ষায় পড়ে থাকে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জনজীবন অচল হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে আধুনিক ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ভোগ বাড়বে। স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যা নিরসনের সম্ভাবনা নেই।”

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD