বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট বর্তমান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। সোমবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়াখুন আন্তর্জাতিক এই নৌপথে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংঘাত পরিহার করে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল এবং জটিল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কুও চিয়াখুন। তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের অস্থিরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই সংকট নিরসনে কোনো প্রকার উস্কানিমূলক পদক্ষেপ না নিতে তিনি সতর্ক করেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জোরপূর্বক আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলসীমায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পরোক্ষ উল্লেখ করে চীনা মুখপাত্র বলেন,
“আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন এবং দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করবে। বিশেষ করে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।”
চীন মনে করে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং নৌ-নিরাপত্তার জন্যও ভয়াবহ পরিণাম বয়ে আনবে। কুও চিয়াখুন স্পষ্ট করে বলেন, উত্তেজনা বৃদ্ধি বা সংঘাত উসকে দেওয়ার মতো যেকোনো পদক্ষেপ থেকে সব পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমেই কেবল আন্তর্জাতিক নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশের পরিবহণ পথ। এই পথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ চেইনে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা থাকে। চীনের এই আহ্বানকে মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিজিটিএন