দেশের স্টিল শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
বিএসএমএ জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্টিল পণ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে কর, শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে শিল্পখাতটি বর্তমানে সংকটের মুখে রয়েছে।
সংগঠনটি স্টিলের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ, রড বিক্রয়ে উৎসে কর (টিডিএস) ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামানো এবং টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা—সব মিলিয়ে স্টিল শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শুল্ক কাঠামো প্রসঙ্গে বিএসএমএ জানায়, পূর্বের কাস্টমস ডিউটি (সিডি) প্রত্যাহার করা হলেও নতুন করে কাঁচামাল আমদানিতে প্রতি মেট্রিক টনে ১,৮০০ টাকা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যা আগে ছিল না।
সংগঠনটি স্টিল শিল্পের স্বার্থে জাতীয় বাজেটে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সব দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে এবং অপব্যবহার রোধে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মূল্যের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।