শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য যে ৭ লক্ষণে বুঝবেন প্রেমিকা আপনাকে সত্যিই ভালোবাসে ১৮২ রান টপকে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের, সিরিজে এগিয়ে টাইগাররা ‘গণভোট ও জুলাই সনদ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’ : প্রধানমন্ত্রীর স্টিল খাতে শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব বিএসএমএ’র ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: মাঝখানে কেন ‘ইকবাল’? আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে দুষলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ৮০ শতাংশই নারী মাঝারি বায়োপিকেও অটুট থ্রিল, মাইকেলের দ্যুতিময় উপস্থিতি হরমুজ ও যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব ইরানের শহীদ জিয়ার মাজারে জিয়া শিশু কিশোর মেলার নতুন কমিটির শ্রদ্ধা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: মাঝখানে কেন ‘ইকবাল’?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও তীব্র উত্তেজনার মুখে। হুমকি, পাল্টা হুঁশিয়ারি আর কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—এই সংঘাতে হঠাৎ করে কেন উঠে আসছে ‘ইকবাল’-এর নাম? ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য সামরিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চাপের কাছে তারা নতিস্বীকার করবে না।

ইরানের অবস্থান পরিষ্কার: আগে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, তারপরই আলোচনায় বসা সম্ভব। অন্যথায় তারা সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। এই অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও তাতে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর পিছিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় অনেকের প্রশ্ন—একটি সুপারপাওয়ারের মুখোমুখি হয়ে ইরান এতটা অনমনীয় কেন? সম্প্রতি এক মার্কিন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এক ইরানি সাংবাদিক বলেন, “আমাদের সমস্যা হলো ইকবাল।”

এই ‘ইকবাল’ হলেন আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল—যিনি পাকিস্তানের জাতীয় কবি এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ। ইরানে তিনি ‘ইকবাল লাহোরি’ নামেও পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, ইকবালের চিন্তা-দর্শন শুধু সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তা রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করেছে। লাহোরে ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে ইরানের কনসাল জেনারেল মেহরান মোয়াহেদ ফার বলেন, “ইকবাল ইরানিদের যে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছেন, তা দিয়েই আমরা আমেরিকার মোকাবিলা করেছি।” এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইকবালকে নিয়ে বইও লিখেছেন। ধারণা করা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবেও ইকবালের চিন্তা বড় ভূমিকা রেখেছে।

ইকবালের দর্শনের মূল কথা—আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। তাঁর কবিতায় বারবার উঠে এসেছে শক্তির সামনে মাথা নত না করার বার্তা।
এই দর্শনই ইরানের বর্তমান অবস্থানকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কড়া অবস্থান ইরানকে দমাতে পারেনি। কারণ, বিষয়টি শুধু কূটনীতি বা সামরিক শক্তির নয়—এটি আদর্শিক অবস্থানের প্রশ্নও।

“আল্লাহ ছাড়া মুসলমান কারও দাস নয়,
কোনো ফেরাউনের সামনে সে মাথা নত করে না।”

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। এর পেছনে রয়েছে গভীর আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব—যার অন্যতম উৎস আল্লামা ইকবালের চিন্তা। এই কারণেই, আধুনিক কূটনীতির টেবিলে বসেও শত বছর আগের এক কবির নাম বারবার ফিরে আসে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD