ইরান ইস্যুতে বিভক্ত ইউরোপ, যুদ্ধের বিপক্ষে স্পেন

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও কটূক্তির জবাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো শানসেজ।

বুধবার (৪ মার্চ) দেওয়া ওই ভাষণে পেদ্রো শানসেজ স্পষ্ট ভাষায় ইরান নিয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “সরকারের অবস্থান বোঝাতে কয়েকটি শব্দই যথেষ্ট—ইরানে যুদ্ধ নয়।”

প্রায় দুই দশক আগের ইরাক যুদ্ধের কথা স্মরণ করে শানসেজ বলেন, সেই যুদ্ধ মানবতার জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। বরং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শরণার্থী সংকট বেড়েছে এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি কী হতে পারে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য হামলার প্রকৃত লক্ষ্য কী—সেটিও স্পষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সামলাতে ব্যর্থ, তারা অনেক সময় যুদ্ধের ধোঁয়া ব্যবহার করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চায়। এতে লাভবান হয় কেবল অল্প কয়েকজন—যারা অস্ত্র উৎপাদন ও যুদ্ধের বাজার থেকে মুনাফা করে।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, স্পেন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান দেশটি থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞারও হুমকি দেন।

এদিকে সম্ভাব্য মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে স্পেনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কারণ স্পেনের মোট রপ্তানির মাত্র চার শতাংশের কিছু বেশি যায় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে শুল্ক বাড়ানো হলে ইউরোপের নির্দিষ্ট পণ্য—যেমন ওয়াইন বা অলিভ অয়েল—ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শুধু স্পেন নয়, ফ্রান্স ও পর্তুগালের মতো দেশও প্রভাবের মুখে পড়বে।

স্পেন আশা করছে, যেহেতু বাণিজ্যনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পাশে দাঁড়াবে। তবে জার্মানির ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে মাদ্রিদ।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেন, ট্রাম্প যখন স্পেনের সমালোচনা করছিলেন, তখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারৎস তার পাশেই বসে ছিলেন। কিন্তু তিনি স্পেনকে নিয়ে করা মন্তব্যের কোনো জবাব দেননি। কেন তিনি তা করেননি, সেটি তাঁর বোধগম্য নয়।

আলবারেস স্মরণ করিয়ে দেন, আগের জার্মান চ্যান্সেলররা ইউরোপীয় সংহতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঐক্যের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে মাদ্রিদ।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD