এনবিআর আন্দোলন ছিল সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র: জ্বালানি উপদেষ্টা

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন ঘিরে যে অসন্তোষ ও আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে পরিকল্পিতভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার চক্রান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
রোববার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এনবিআরের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, সেটিকে বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল—সরকারকে অস্থিতিশীল করা, রাজস্ব খাতে অচলাবস্থা তৈরি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ধস নামানো।”
তিনি আরও জানান, “একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কয়েকজন কর্মকর্তা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সরকারবিরোধী পরিকল্পনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করতেন। এ গ্রুপে সরকারের নীতিমালা, কর্মকর্তাদের পদায়ন ও সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বিক্ষোভ সংগঠিত করা হতো। গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এসব তথ্য রয়েছে।”
উপদেষ্টা বলেন, “এনবিআরের কিছু অসন্তুষ্ট কর্মকর্তা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও সরকার তা কঠোরভাবে দমন করেনি। বরং ধৈর্য ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজেছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।”

এনবিআর পুনর্গঠন ও সংস্কার

সরকারের নেওয়া কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআরকে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করা হয়েছে—‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব বাস্তবায়ন বিভাগ’।
এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “নতুন বিভাগ দুটির গঠনের পর সচিব পদে নিয়োগ নিয়ে এনবিআরের একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং সংগঠিত আন্দোলনে নামে। তবে এখন তারা অনুধাবন করছেন—এ ধরনের সংস্কার ছাড়া এনবিআরের জটিলতা দূর করা সম্ভব নয়।”
তিনি জানান, আন্দোলনের পর উপদেষ্টা পরিষদ ইতোমধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। এতে ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশন, আয়কর অ্যাসোসিয়েশন, এনবিআর কর্মকর্তারা, সংস্কার কমিশন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন।
আলোচনায় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই মাসের আন্দোলনের ফলে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা, আমদানি-রপ্তানিতে ব্যাঘাত ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে তারা সরকারের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং এনবিআরের নাম পরিবর্তনকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
উপদেষ্টা বলেন, “আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজস্ব নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগে ক্যাডার কর্মকর্তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা আপত্তি করবেন না। অনেকে ইতোমধ্যে তাদের পূর্বেকার অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছেন।”
এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে বলেও জানান উপদেষ্টা। “দুদকের কাছে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা অনুরোধ করেছেন, যেন এই প্রক্রিয়ায় অত্যধিক কঠোরতা না দেখিয়ে বাস্তবতা বিবেচনায় ধীর ও ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা স্বীকার করি, অর্থনীতি এখনও প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতায় পৌঁছায়নি। তবে গত কয়েক মাসে রাজস্ব সংগ্রহ, আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।”
গত ৩০ জুন এনবিআর সংস্কার ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে সরকার। এই কমিটিতে রয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বাণিজ্য, বস্ত্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এই কমিটি মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং রাজস্ব আদায়ের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করছে। উপদেষ্টারা আশা প্রকাশ করেছেন, অচিরেই রাজস্ব ব্যবস্থায় একটি টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD