আবারও ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করল ইরান

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোকে তারা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে তেহরানের একটি পার্কে প্রদর্শিত হচ্ছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র; ২৬ মার্চ ২০২৬। ছবি: মজিদ আসগরিপুর/ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক বেনামি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

ফারস নিউজের ওই সূত্র জানায়, গত বুধবার একটি নাম প্রকাশ না করা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পাঠিয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানই মূলত যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সেই দাবি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও এখন ব্যর্থ হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলোকে তারা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে, ইরান নিজেদের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের সকল সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, যুদ্ধে ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, কাতারও এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হতে অনিচ্ছুক। যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলো কাতারকে মধ্যস্থতার জন্য চাপ দিলেও তারা এখন পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তবে তুরস্ক ও মিসর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ এক মাস পার হলেও দেশটির সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে এখনো তাদের মোট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং কামিকাজে ড্রোনের প্রায় অর্ধেক মজুত রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলি সরকারের সেই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই তারা দাবি করে আসছিলেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস বা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরানের সামরিক কমান্ডের ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবরটি প্রচার করেছে।

ইরান প্রাথমিকভাবে এটি একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান বলে দাবি করলেও পরে মার্কিন সামরিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল একটি নির্দিষ্ট মডেলের যুদ্ধবিমান। বিমানে থাকা দুইজন ক্রুর মধ্যে একজনকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। নিখোঁজ অপর পাইলটের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিমানটি সম্ভবত কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

একই দিন গভীর রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর আরও একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। ওই বিমানটি হরমোজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হয়। তবে এই বিমানে থাকা একমাত্র পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD