বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের জনগণের কাছে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি ইতোমধ্যে সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং জনগণের সমর্থন পেলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিটিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের সমর্থন পেলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
তারেক রহমান জানান, মানবসম্পদকে শক্তিশালী করতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি হাই স্কুল পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি একাধিক ভাষায় দক্ষ হলে বিশ্বের যেকোন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিএনপি জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রিজিক। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতি অনুসরণ করে সারাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে জনগণকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আইসিটি খাতকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ২০২৩ সালে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল এবং দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও ব্যয় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে এবং দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের ঘাটতি থাকবে না।
সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণেও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রায় দুই লাখ মসজিদের ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বিমানবন্দরে হয়রানি কমানো হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া শ্রমিকদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে। একই সঙ্গে সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। অতীতে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সমর্থনে একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুরক্ষা, বিমানবন্দরে হয়রানি কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া শ্রমিকদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে বিএনপি বিশ্বাস করে। একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সময়মতো জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, ধর্মীয় নেতাদের আর্থিক সহায়তা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়। অতীতে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব এবং এবারের নির্বাচন সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।