অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। বর্তমান সরকার সেই ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। শনিবার সচিবালয়ের মাল্টিপারপাস হলে গণমাধ্যম সম্পাদকদের সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা কঠিন সময় পার করছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বের হয়ে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের দিকে এগোচ্ছি।” তিনি জানান, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হয়েছে। কামার, কুমার ও তাঁতিদের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্যবসা সহজ করতে ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’-এর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “একটি রেস্টুরেন্ট চালু করতে অসংখ্য লাইসেন্স লাগে—এভাবে ব্যবসা চলতে পারে না। আমরা প্রক্রিয়া সহজ করতে চাই।” পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে বিকল্প অর্থায়ন উৎস হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে উচ্চ সুদের চাপ কমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি ব্যয় করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ ও ‘গ্যাম্বলিং’-এর কারণে পুঁজিবাজারে আস্থা কমেছে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিদেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক দেশে মিউনিসিপ্যাল প্রকল্পে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তোলা হয়। আমরা এ ব্যবস্থা চালু করতে পারলে সরকারের সুদের চাপ কমবে।”
আলোচনায় গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অনলাইন পত্রিকায় সরকারি বিজ্ঞাপন চালুর দাবি জানান। তারা বলেন, নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। সরকারি কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার প্রস্তাবের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারি মালিকানা বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে লাভজনক প্রকল্প সিকিউরিটাইজ করে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ আছে।” পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে কর ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ব্যবধান ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা হবে।
আয়কর ফাঁকি রোধে কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতের বড় অংশের ঋণ প্রকৃতপক্ষে ‘খেলাপি’ নয়, বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির ফল। অনেক ঋণের যথাযথ নথি ও জামানত নেই।
তিনি আরও জানান, সরকার টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিচ্ছে—এমন তথ্য সঠিক নয়; বরং সরকারের নিট ঋণ কমেছে। অর্থসচিব জানান, আগামী বাজেটের আকার বাড়লেও মূলধনী বিনিয়োগ প্রায় একই থাকবে এবং বাজেট নিয়ে সরকার আশাবাদী। একই দিনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এসএমই খাতের জন্য পৃথক নীতিসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।