স্থিতিশীলতা নষ্টকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: আমির খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, সংবেদনশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক ধারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি থাকে, যাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কারও নেই।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই। “শিক্ষার্থীরা এখানে লেখাপড়া করবে। বাইরের কেউ যেন প্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” চট্টগ্রাম-১১ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা একটি স্থিতিশীল ও সংবেদনশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। দেশের অগ্রগতির জন্য স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যে কোনো শক্তি—যেই হোক—যদি স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করে, আইনের চোখে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সংকট আছে, তবে তা শুধু দেশের নয়—বিশ্বব্যাপী। জ্বালানির দাম বাড়াতে আমরা অন্য দেশের তুলনায় অনেক দেরি করেছি, যাতে জনগণের ওপর চাপ কম পড়ে।”
তিনি জানান, বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্য ১০-১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যেখানে অনেক দেশে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। “সরকারের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কারণ সরকার জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। তাই সবাইকে কিছুটা কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে,” বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং শিল্পকারখানা সচল থাকে। “সমস্যা আছে, তবে আমরা তা দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোকাবিলা করছি,” যোগ করেন তিনি।
স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার সব কিছু স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করছে। বিরোধী দলসহ একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে কোনো লুকোচুরি নেই—দেশ সবার।”
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশ থেকে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সময় লাগবে, তবে আমরা কাজ করছি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন, এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD