দুই দশকে প্রথম, ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত—প্রশ্নের মুখে মার্কিন রণকৌশল

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা মার্কিন বাহিনীর জন্য এক বিরল ও বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘পুরোপুরি বিধ্বস্ত’, তখন এই ঘটনা তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতার দিকটিই সামনে এনে দিয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শুক্রবার একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে থাকা দুইজন ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের সন্ধানে এখনও তল্লাশি চলছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ আক্রমণ বিমানও ভূপাতিত করেছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন কান্টওয়েল জানান, এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। তিনি বলেন, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, যাদের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে এত দীর্ঘ সময় কোনো বিমান না হারানো ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিদিনই যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান উড়ছে এবং প্রতিপক্ষও প্রতিদিনই সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ১২ হাজার ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ইরান এখনও একটি শক্তিশালী ও দৃঢ় প্রতিপক্ষ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি; বরং তা এখনো সক্রিয় রয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস’-এর পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, একটি নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানেই তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে—এমনটি নয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন বিমানগুলো নিচু দিয়ে উড়ার কারণে সেগুলো সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্মকর্তা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, বিমান ভূপাতিত করতে সম্ভবত কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে যে ইরান দুর্বল হলেও এখনো প্রাণঘাতী প্রতিপক্ষ হিসেবে টিকে আছে।

মার্ক ক্যানসিয়ান আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমানের ক্ষতির হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রায় ৩৫০টি বিমানের সমান। সেই তুলনায় এখন ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও এর একটি রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ‘রক্তপাতহীন’ যুদ্ধে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে সামান্য ক্ষয়ক্ষতিও তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

পাইলটদের প্রশিক্ষণে বিমান থেকে প্যারাসুট ব্যবহার করে নিরাপদে অবতরণ এবং উদ্ধারকারীদের কাছে অবস্থান জানানোর কৌশল শেখানো হয়। তবে শত্রুপক্ষ প্রায়ই এই যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করে।

শুক্রবারের উদ্ধার অভিযানে মূলত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা তুলনামূলক ধীরগতির হওয়ায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৮০ সালে তেহরান থেকে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারের ব্যর্থ অভিযানে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আটজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD