কেন যুদ্ধে জড়াল পাকিস্তান-আফগানিস্তান: আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঘোষণা দিয়েছেন, তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং দুই দেশ কার্যত ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ লিপ্ত। বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, কাবুল ছাড়াও কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশ-এ তালেবানের সামরিক স্থাপনা—বিশেষ করে ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

হামলার সময় আফগান বাহিনীকে বিমান বিধ্বংসী কামান থেকে গোলা ছুড়ে পাল্টা জবাব দিতে দেখা যায়।

এর পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেন, “আমাদের ধৈর্যের পেয়ালা পূর্ণ হয়ে গেছে। এখন আমাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ শুরু হলো।”

এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত রোববার আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের আরেক দফা বিমান হামলার মাধ্যমে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার ভোরে আফগান বাহিনী ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়।

তাদের দাবি, এতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৯টি সামরিক পোস্ট ও দুটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করেছে।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বিস্তর পার্থক্য দেখা গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেন, তাদের হামলায় ১৩৩ আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া ৮০০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান ও সশস্ত্র যান ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

অন্যদিকে তালেবান সরকার বলছে, তাদের মাত্র আট যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পাকিস্তানের দুই সেনা নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করা হয়েছে।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ১৮৯৩ সালে নির্ধারিত ডুরান্ড লাইন, যা আফগানিস্তান কখনও আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে অন্তত ৭৫ বার ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান মাটিতে আশ্রয় পাচ্ছে। তালেবান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তান ঐক্যবদ্ধভাবে মাতৃভূমি রক্ষা করবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান ও রাশিয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে ভারত বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে।

উভয় পক্ষ সীমান্তে ভারী অস্ত্র ও গোলন্দাজ বাহিনী মোতায়েন করায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।

 

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD