ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। চলন্ত ভ্যানে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পাশবিক নির্যাতনের পর তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। গত সোমবার গভীর রাতের এই ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানায়, সোমবার রাতে ওই তরুণী বাড়ি ফেরার জন্য রাস্তায় গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি ভ্যানে থাকা দুই যুবক তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তাতে রাজি হন। তবে গাড়িটি তরুণীর গন্তব্যের দিকে না গিয়ে ভিন্ন পথে গুরুগাঁও সড়কের দিকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, ভ্যানের ভেতরেই প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নির্যাতনের পর ভোররাত ৩টার দিকে এসজিএম নগরের রাজা চকের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তরুণীর মুখে গুরুতর জখম রয়েছে এবং সেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও তিনি চরম মানসিক আতঙ্কে ভুগছেন। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার বয়ান নিতে পারেনি।
ফরিদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত ভ্যানটিও জব্দ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে।
এমএ