সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা (৪৮) হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন না পাওয়ায় সি ডব্লিউ (কাস্টডি ওয়ারেন্ট) মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার কামারখন্দ আমলী আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক কে.এম. শাহরিয়ার শহীদ বাপ্পি মামলার প্রধান আসামি সেলিম রেজাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই মামলার আরেক আসামি আব্দুল্লাহ শেখও আদালতে হাজির ছিলেন।
এ বিষয়ে আদালতের সিআই (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. মাসুদ হোসেন জানান, মোছা. সাথী খাতুনের দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সেলিম রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম রেজা দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছিলেন। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকেই আশান্বিত ছিলেন তার প্রভাব কমবে, তবে বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় তার দাপট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাইকশা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. সাথী খাতুন জানান, গত মে মাসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার স্বামী আব্দুল্লাহ শেখকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা দিয়ে মাথায় আঘাত ও শরীরে এলোপাতাড়ি মারধর করে সেলিম ও তার সহযোগীরা। এ সময় তারা নগদ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর সাথী খাতুন বাদী হয়ে সেলিম রেজাকে প্রধান আসামি করে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে কামারখন্দ থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সেলিমের অত্যাচারে আমরা ঘর ছাড়া। সরকার বদলালেও তার দাপট কমেনি। এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না, কারণ সে শুধু আওয়ামী লীগ নেতা নয়, বড় অর্থদাতাও।”
তিনি আরও বলেন, “চোরাই পথে সুতার ব্যবসা করে সে এখন শতকোটি টাকার মালিক। বিলাসবহুল বাড়িতে থাকে, অথচ একসময় তার কিছুই ছিল না। স্থানীয় একজন যুবদল নেতা তার নির্যাতনের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।”
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সেলিম রেজা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে না পেরে ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বজলুর রহমানকে মারধর করেছিলেন। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো বিচার পাননি ভুক্তভোগী। তখন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করে তার শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
সেলিম রেজা কারাগারে পাঠানোর খবরে পাইকশা গ্রামে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। অনেক ভুক্তভোগী বলছেন, অবশেষে দীর্ঘদিনের দখলদার একজন ‘প্রভাবশালী সন্ত্রাসী’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
বাদী সাথী খাতুন বলেন, “আল্লাহ আমাদের কথা শুনেছেন। সেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী সেলিম এখন জেলে। আমি তার কঠোর শাস্তি চাই সরকারের কাছে।”