ট্রাফিক সার্জেন্টকে গালিগালাজ, কর কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

ঢাকার পলাশী মোড়ে দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সহকারী কর কমিশনার ফাতেমা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। রবিবার (১০ আগস্ট) আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।

ফাতেমা বেগম কর অঞ্চল-২৫–এ দায়িত্বে ছিলেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে তার আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর ৩(খ) ধারায় ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যধারা শুরুর আগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ সময় তিনি পূর্ণ বেতন না পেয়ে বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে। ব্যক্তিগত কাজে প্রাইভেট কারে পলাশী মোড়ে অবস্থানকালে ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহা জামাল নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। ফাতেমা বেগম কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গাড়ি থেকে নেমে সার্জেন্টকে উদ্দেশ করে “ছোটলোকের বাচ্চা”, “ফকিন্নির বাচ্চা”, “সারা জীবন ঘুষ খাইছে”সহ একাধিক অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় সার্জেন্ট শাহা জামাল লালবাগ থানায় মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়ার পর আইআরডি শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সরকারি সেবাখাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেয়।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই কর্মকর্তাদের আচরণবিধি ও জনসেবার সময় ভাষা ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি তুলেছেন।

তদন্ত শেষে ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবে আইআরডি। সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, অসদাচরণ প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতি, পদাবনতি ও বেতন কর্তনসহ বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD