কাতারে ইসরায়েলি হামলার পর সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের তীব্র প্রতিক্রিয়া

0c1c82de0fe10c379cc35445ab08977f-68c05d9227b0a-1.jpg
মো: আল মামুন আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় সৌদি আরবসহ একাধিক আরব দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাতারের একটি আবাসিক ভবনে চালানো এ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার পরপরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘নৃশংস আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। রিয়াদ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। দেশটি সতর্ক করেছে—ইসরায়েলের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য শিগগিরই কঠিন পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

হামলার পর সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কাতারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, দোহার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরব সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে পাশে থাকবে।

পরে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর ফোনালাপ হয়। সেখানে দুই নেতা দোহার ওপর ইসরায়েলের নৃশংস হামলা ও কাতারের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কাতারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও একইভাবে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান হামলাকে ‘স্পষ্ট ও কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা শুধু কাতারের সার্বভৌমত্বকেই লঙ্ঘন করেনি, বরং আন্তর্জাতিক আইনকেও চরমভাবে অমান্য করেছে।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াবে না, বরং সংকট সমাধানের জন্য বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করে দেবে।

একইসঙ্গে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এবং বিশ্ব মুসলিম লিগও তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলার দ্রুত অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের এই হামলার পর কাতারের প্রতি আরব বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

scroll to top