শিরোনাম :
পারমাণবিক আগুনে ঘি ঢালছে মধ্যপ্রাচ্য একটি সমাধি ঘিরে অসংখ্য বিশ্বাসের গল্প সু চির সাজা কমালেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং হরমুজ প্রণালি সচল করতে প্যারিসে বিশ্ব সম্মেলন: ম্যাক্রোঁ-স্টারমারের বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হজযাত্রীদের পদচারণায় মুখর আশকোনা হজক্যাম্প: রাতে উড়ছে প্রথম ফ্লাইট সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র নিম্নমানের কিটে ভুল রিপোর্ট, বাড়ছে হেপাটাইটিস-এইচআইভি ছড়ানোর শঙ্কা দেশের তরুণ-তরুণীরা ইন্টারনেটে কী বেশি খোঁজে? চীন সফরে বিএনপির প্রতিনিধিদল, বিমানবন্দরে বিদায়ী সংবর্ধনা

আবারও আটকে গেল ট্রাম্পের বিতর্কিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতির আদেশ

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ রিপোর্ট
  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ আবারও আইনি বাধার মুখে পড়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি ফেডারেল আদালত আদেশটির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন। ফলে আগামী ২৭ জুলাই থেকে আদেশটি কার্যকরের যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।

বিতর্কিত এই আদেশে বলা হয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে, যাদের বাবা-মা অবৈধ অভিবাসী বা ভিসাবিহীনভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন।

আদালতের বিচারক আদেশটি “অসাংবিধানিক ও ক্ষতিকর” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শিশুদের মৌলিক অধিকার হরণের সামিল। মামলাটি ক্লাস অ্যাকশন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া হাজার হাজার শিশুর নাগরিকত্ব এখন ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

এই মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)। সংগঠনটির দাবি, ট্রাম্পের আদেশটি সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন। সেই সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসিএলইউ’র সতর্কবার্তা:

এই আদেশ বাস্তবায়িত হলে অসংখ্য পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, বহু শিশু নাগরিকত্ব হারিয়ে পড়ত আইনি জটিলতায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী—বলছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থী আইনজীবীরা আদালতের এই রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পথে একটি বড় বাধা।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় থেকেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিলুপ্তির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময়ও একাধিকবার আইনি বাধায় তার উদ্যোগ থেমে যায়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি বিষয়টি আবারও সামনে আনেন এবং নতুন করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন।

তবে এবার নিউ হ্যাম্পশায়ার আদালতের রায় পূর্বের তুলনায় আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামোতে উপস্থাপিত হয়েছে। আদালত মামলাটিকে ক্লাস অ্যাকশনের আওতায় নিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

তবে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে ৭ দিনের সময়সীমা দিয়েছে—এই সময়ের মধ্যে তারা চাইলে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। সুপ্রিম কোর্ট ইতিপূর্বে একাধিকবার এই অধিকারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশটি চূড়ান্ত বৈধতা না পেলে ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

নিউ হ্যাম্পশায়ার আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু আইনত নয়, নৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া লক্ষাধিক শিশুর জন্য এটি একটি আশার বার্তা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন এক আইনি অধ্যায়ের সূচনা করেছে—যেখানে মুখোমুখি হয়েছে সংবিধান, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালা।

আরও
© All rights reserved © 2026 24ghantabangladesh
Developer Design Host BD