রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মারুফ কারখী ছাত্রীদের হাতে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস শেষে বের হওয়ার সময় কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ ফটকের সামনে হঠাৎ এক কিশোরী (১৬) দৌঁড়ে এসে “হেল্প, হেল্প” বলে চিৎকার করতে থাকে। শিক্ষক মারুফ মোটরসাইকেল নিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলে মেয়েটি অতর্কিতভাবে তাঁর গলা লক্ষ্য করে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে। হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গিয়ে তিনিও গুরুতর জখম হন।
তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচে) নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর গলায় তিনটি ও হাতে পাঁচটি সেলাই দেন এবং আপাতত বাসায় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।
আহত শিক্ষক মারুফ কারখী বলেন,
“আমি ভেবেছিলাম ছিনতাইকারীরা মেয়েটির ব্যাগ নিয়ে পালিয়েছে, তাই সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে হঠাৎ গলায় ছুরি চালায়। তখন বুঝতে পারি আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে।”
ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন মেয়েটিকে আটক করে। তবে কিছুক্ষণ পর তার পরিবার এসে তাকে নিয়ে যায়। স্কুল ক্যাম্পাসে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই মেয়েটি নানা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিতর্কিত ছিল। সে ফেসবুকে শিক্ষকদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে অশ্লীল ছবি পাঠাতো এবং সহপাঠীদের হয়রানি করত। একাধিকবার সতর্ক করার পরও আচরণ না বদরানোয় ২০২৩ সালে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে সে বিজিবি পরিচালিত শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী।
শিক্ষক মারুফ আরও বলেন,
“সে উন্মাদের মতো গালাগালি করছিল এবং বলছিল—‘ক্যান্ট স্কুলের যাকে পাবো তাকেই মারবো।’ আমার ধারণা, সে আগেই আমাকে টার্গেট করেছিল।”
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।