ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান এবং একপর্যায়ে অধিবেশন ত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহ ভাষণ শুরু করতে গেলে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় বিরোধী সদস্যরা ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
এর আগে অধিবেশন চলাকালে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ঘোষণার পরপরই বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের মধ্যেই বিউগলের সুর বাজানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।
রাষ্ট্রপতি স্পিকারের ডান পাশে নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন শুরু হয় এবং সংসদ কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়। সরকার দলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা প্রথমে বসে থাকেন। পরে জাতীয় সংগীতের মাঝামাঝি সময়ে তারাও দাঁড়িয়ে পড়েন।
জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত আসনে বসেন। এ সময় জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন। তারা ‘খুনি’, ‘ফ্যাসিস্ট চুপ্পু’, ‘গেট আউট চুপ্পু’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্পিকার বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন।
তারা ‘ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্র একসঙ্গে চলবে না’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা, হুঁশিয়ার সাবধান’—এ ধরনের স্লোগান দেন। টেবিল চাপড়ে ও উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় সরকার দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা ঠিক হচ্ছে না। তবে অধিকাংশ সরকার দলীয় সদস্য নীরব ছিলেন।
বিক্ষোভের সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী সদস্যরা রাষ্ট্রপতির অভিশংসন, পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানান। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী। এই সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না।”
এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আসন ছেড়ে রাষ্ট্রপতির ডায়াসের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে বিরোধী দলীয় উপনেতা থামিয়ে দেন। পরে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে বিরোধী সদস্যদের অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
প্রায় চার মিনিটের অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। এ সময়ও বিরোধীদের বিক্ষোভ চলতে থাকে। পরে স্লোগান দিতে দিতে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
এরপর রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেন।





