ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ এখনও কাটেনি। ভোটগ্রহণ শেষ, এখন অপেক্ষা ফলাফলের। এমন সময় তারকাদের নির্বাচনী প্রচার ও পারিশ্রমিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন টলিউড নির্মাতা শুভ্রজিৎ মিত্র। তার দাবি, এই প্রচার নিছক জনসেবা নয়, বরং এটি একটি লাভজনক ব্যবসা।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, একেকটি রোড-শোতে অংশ নিতে অনেক তারকা ২ থেকে ৫ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ থেকে ৭ লাখ টাকা) পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন।
শুভ্রজিৎ মিত্রের দাবি, অনেক তারকা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার আগে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন এবং পারিশ্রমিক হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মাঠে নামেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তারকার অনেকেরই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ নেই; তারা মূলত পেশাদার হিসেবেই বিভিন্ন দলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেন। শিল্পী সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়-এর একটি পোস্টের প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেন ‘দেবী চৌধুরানী’খ্যাত এই নির্মাতা।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য (এমপি) বা বিধায়ক (এমএলএ) প্রার্থীদের প্রচারে যুক্ত হলে অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। প্রচারের বাজেট, হেলিকপ্টার ভাড়া ও কর্মীদের ভাতার আড়ালে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রচারের প্রতিটি ধাপই এখন অনেকের জন্য লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারির কথাও উল্লেখ করেন এই নির্মাতা। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জেনেছেন—প্রতিটি র্যালি ও সংশ্লিষ্ট নগদ লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি—উভয় দলের পক্ষেই টলিউডের তারকাদের সক্রিয়ভাবে প্রচারে দেখা গেছে। দেব, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, কৌশানি মুখার্জি, সৌমিতৃষা কুণ্ডু, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও অঙ্কুশ হাজরাসহ অনেকেই বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে শুভ্রজিৎ মিত্রের এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।