মহাকাশপ্রেমী এবং কৌতূহলী মানুষের জন্য আজ এক অসাধারণ রাতের অপেক্ষা। আজ বুধবার (১১ জুন) দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণিমা চাঁদ, যা ‘স্ট্রবেরি মুন’ নামে পরিচিত। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালের এই স্ট্রবেরি মুন বিগত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচু অবস্থানে ওঠা পূর্ণিমা চাঁদ হতে চলেছে। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আবারও দেখতে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ ১৮ বছর, অর্থাৎ ২০৪৩ সাল পর্যন্ত।
প্রতি বছর জুন মাসে পূর্ণিমা চাঁদকে ‘স্ট্রবেরি মুন’ নামে অভিহিত করা হয়। রয়েল মিউজিয়ামস গ্রিনউইচের তথ্য অনুযায়ী, এর নামকরণ করা হয়েছে আদিবাসী আমেরিকানদের ঐতিহ্য অনুসারে, যারা জুনের এই সময়ে তাদের স্ট্রবেরি ফসলের মৌসুম উদযাপন করত। এটি চাঁদের রঙের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি একটি ঋতুভিত্তিক নামকরণ।
যেমন, অক্টোবর মাসের পূর্ণিমাকে ‘হান্টার্স মুন’ এবং নভেম্বর মাসের পূর্ণিমাকে ‘বিভার মুন’ বলা হয়, যা একইভাবে ঋতুভিত্তিক কার্যকলাপের সাথে সম্পর্কিত।
যদিও প্রতি মাসেই পূর্ণিমা দেখা যায় এবং ‘স্ট্রবেরি মুন’ প্রতি বছরই আসে, তবে এই বছরের দৃশ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম চাঁদকে তার সাধারণ আকৃতির চেয়ে অনেক বড় এবং বেশি উজ্জ্বল দেখাবে। এর কারণ হলো, চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসবে, যা এটিকে দৃশ্যত অনেক বড় দেখাবে।
এই ‘স্ট্রবেরি মুন’ নামটি ঐতিহ্যগত হলেও, চাঁদ আসলে স্ট্রবেরির মতো গোলাপি বা লাল রঙের হবে না। তবে, যেহেতু এই বছর চাঁদ আকাশের খুব নিচে উঠবে, তাই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর বিচ্ছুরণের কারণে এটিকে কিছুটা কমলা বা লালচে দেখাতে যেতে পারে। এটি একটি প্রাকৃতিক অপটিক্যাল ঘটনা, যা সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় সূর্যের লালচে দেখানোর মতোই।
ইউনিভার্সাল টাইম-এর (ইউটিসি) সময় অনুযায়ী, এই চাঁদ পূর্ণতা পাবে সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। তবে, বাংলাদেশে আজ বুধবার (১১ জুন) সূর্যাস্তের পরপরই পূর্ব আকাশে এই মনোমুগ্ধকর ‘স্ট্রবেরি মুন’ দেখা যাবে। রাতের আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশের মানুষ এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারবে। এই বিশেষ চাঁদ দেখার সুযোগ হাতছাড়া না করার জন্য মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।