চলতি সপ্তাহে রাতের আকাশে দেখা মিলবে বছরের সবচেয়ে বড় এবং উজ্জ্বল চাঁদ, যা সুপারমুন নামে পরিচিত। মহাজাগতিক সৌন্দর্যে ভরা এই বিশেষ পূর্ণিমাটিই হলো সুপারমুন।
ধারণা করা হচ্ছে আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে দেখা যাবে ২০২৫ সালের তিনটি সুপারমুনের মধ্যে দ্বিতীয়টি। এদিনই যুক্তরাজ্যে পালিত হবে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বনফায়ার নাইট’। ফলে আজকের রাতটি হয়ে উঠবে আলো, ঝলক আর রঙের এক মায়াবী সমাহার।
চাঁদ যখন তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর নিকটতম বিন্দুতে পৌঁছায়, ঠিক সেই মুহূর্তেই আসে পূর্ণিমা। এই কারণে, চাঁদকে তখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল এবং বৃহৎ দেখায়। ফলস্বরূপ, এই সপ্তাহের রাতগুলি হবে অতিরিক্ত আলোকিত ও মনোমুগ্ধকর।
এই চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পরিষ্কার আবহাওয়া থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। তাই, আকাশ কোথায় স্বচ্ছ থাকবে, সেই তথ্য জানতে আবহাওয়া রিপোর্ট অনুসরণ করা আবশ্যক। এতে আপনি চাঁদ দেখার জন্য উপযুক্ত স্থানটি বেছে নিতে পারবেন।
চাঁদ পৃথিবীকে একদম বৃত্তাকার পথে আবর্তন করে না। চাঁদের কক্ষপথ কিছুটা ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার। সে কারণে কখনো চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি আসে (পেরিজি), আবার কখনো দূরে সরে যায় (অ্যাপোজি)।
পেরিজিতে চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মাইল দূরে থাকে, আর অ্যাপোজিতে এই দূরত্ব প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মাইল।
চাঁদ যদি পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে বা পেরিজির ৯০ শতাংশ কাছাকাছি থাকে, তাকে বলে ‘সুপারমুন’। এ সময় আকাশে চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়।
১৯৭৯ সালে জ্যোতিষী রিচার্ড নোল প্রথম এই ‘সুপারমুন’ শব্দটি ব্যবহার করেন। যখন পূর্ণিমা চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। ফলে তা সাধারণ পূর্ণিমার চেয়ে বড় ও উজ্জ্বল হয়।
নভেম্বরের এই সুপারমুনকে বলা হচ্ছে বিভার মুন। বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতি, বিশেষত উত্তর আমেরিকার আদিবাসী গোত্র ও প্রাচীন ইউরোপীয়দের মধ্যে এ নামের ব্যবহার রয়েছে।
কারণ, নভেম্বরেই বিভাররা শীতের প্রস্তুতি হিসেবে বাঁধ তৈরি ও খাদ্য সংগ্রহে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। এমনকি ১৬০০ শতকে যুক্তরাজ্যে বিভার শিকারের প্রচলন ছিল, যার ফলে সেগুলো দেশের প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এ বছরের শেষ সুপারমুনটি ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে দেখা যাবে।
এমএ