গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির এককভাবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে দলটি।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তিরা বর্তমান প্রজন্মকে বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
আধিপত্যবাদী শক্তির উত্থান ঠেকানোকেই এই জোটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নাহিদ।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে আমরা জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিক দলগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। আমরা যৌথভাবে এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে কাজ করব।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে এনসিপি প্রধান জানান, আগামীকাল সোমবার তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং একই দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক দায়ভার এনসিপি গ্রহণ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, এই ঐক্য মূলত নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য একটি কৌশলগত জোট।
তবে এনসিপি তার নিজস্ব আদর্শ ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এমএ