দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজপথে অতীতের মতোই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান। শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যেমন জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনি গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারে তাঁর আজীবন সংগ্রাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, কারান্তরীণ অবস্থায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তৎকালীন সরকার চরম অমানবিক আচরণ করেছে এবং সুচিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে বারবার উপহাস করা হয়েছে।
বেগম জিয়ার জানাজায় সাধারণ মানুষের বিশাল উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি তাঁকে যে বিরল বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। তাঁর এই ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ চলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দুই দলের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে দুই দলই একমত পোষণ করেছে।
জামায়াত আমির বলেন, দেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করেছি যে, অতীতেও যেমন আমরা দেশের প্রয়োজনে পাশে ছিলাম, আগামীতেও ইনশাআল্লাহ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। এমনকি নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগেই আমরা পুনরায় বসে জাতির কল্যাণার্থে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
তিনি আরও যোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের যে ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন, সেই আদর্শকে ধারণ করেই তাঁরা সামনের দিকে এগোতে চান।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন- দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন এবং সাইফুল আলম খান মিলন।