ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রতীক তালিকা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। সংশোধনের ফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফের তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নতুনভাবে অন্তত ৩১টি প্রতীক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসির সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি মেয়াদে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে ১৪৭টি রাজনৈতিক দল। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫০টি, যাদের মধ্যে ৪৪টির প্রতীক সংরক্ষিত তালিকায় রয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট একশটির বেশি প্রতীক সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য পূর্বে বরাদ্দ দেওয়া রকেট, কেটলি, ট্রাক, ফুলকপি, ঈগল ইত্যাদি প্রতীকও এবার তালিকাভুক্ত হতে পারে।
২০১৭ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের পর তাদের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাতিল করা হয়। তবে চলতি বছরের ১ জুন আদালতের আদেশে দলটি আবারও নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায়, ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার।
নতুন দল জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) চেয়েছে শাপলা ফুল প্রতীক। কিন্তু জাতীয় প্রতীক আইনে শাপলা রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে সংরক্ষিত—এমন মত দিচ্ছেন আইনজ্ঞরা।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, “জাতীয় প্রতীকের উপাদান হিসেবে শাপলা কেবল দাপ্তরিক প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য; রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে নয়।”
তবে এনসিপির দাবি—শাপলা একক ফুল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতীকের পূর্ণরূপ নয়। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, “শাপলা প্রতীক নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত মত জানানো হবে।”
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন আপাতত স্থগিত রয়েছে। তারপরও ‘নৌকা’ প্রতীক সংরক্ষিত তালিকায় থাকবে, জানিয়েছে কমিশন।
কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “দলটির নিবন্ধন স্থগিত হয়েছে, তবে প্রতীক তালিকায় রাখা যেতেই পারে—এতে কোনো সমস্যা নেই।”
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, নিবন্ধিত দলগুলো সংরক্ষিত তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নিতে পারে। নতুন দলগুলোর আবেদন অনুযায়ী পছন্দের প্রতীক না থাকলে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন প্রতীক যুক্ত করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একাধিকজন একই প্রতীক চাইলে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ হয়, তবে দলীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, “সব কিছু যাচাই-বাছাই শেষে যেসব দল নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করবে, কেবল তারাই প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি পাবে।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম