বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন সর্বনিম্ন অবস্থানে এবং আগামী দুই বছর অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন এবং বৈশ্বিকভাবেও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এ সময় তিনি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আগামী দুই বছর ‘সেফটি মার্জিন’ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারিদ্র্যের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে এটি ছিল ১৭–১৮ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বেসরকারি খাতের দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষায়, বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি জিডিপির ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৮ শতাংশের বেশি ছিল।
রফতানি খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। গত দুই দশকে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পর বর্তমানে রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে।
একইভাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় ধরনের পতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য গুরুতর ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্তমানে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত আরও ২০–৩০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আগামী দুই বছর আমাদের জন্য একটি সুরক্ষা কুশন প্রয়োজন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি এ সময় রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।